পা’য়ে ভর করেই বিমান চালান। কোন দেশের মহিলা জানেন? দেখুন ভিডিও

নিউজ ডেস্ক – বীরাঙ্গণা কথাটা হয়তো খাটে কোন যোদ্ধার ক্ষেত্রে। যেমন বীরাঙ্গণা বঙ্গনারী মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নিদর্শন পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান সমাজে ইংরেজদের মতো  কোন ভিনদেশী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার না করলেও সমাজের কিছু কুলুষিত মানুষ রয়েছে যারা আজও মেয়েদের পদদলিত করে রাখে। এক ঘরে করে রাখি সকল নারীদের। তারপরে যদি সেই নারী শারীরিক দিক থেকেই প্রতিবন্ধী হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু এমন এক প্রতিবন্ধী মহীয়সী নারী রয়েছে তিনি সমাজের সকল ঘেরাটোপ ভেঙে আকাশে পাড়ি দিয়েছেন। হ্যা এমনই এক নারী হলেন জেসিকা।  যিনি সমাজের সকল অপমান সহ্য করেও নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সফল হয়েছেন। তাহলে আসুন ছোট্ট ঘরে জেসিকার জীবনে নিয়ে গল্প বলা যাক।

ছোটবেলা থেকেই দুই হাতবিহীন আমেরিকাতে জন্ম হয়েছিল জেসিকার। স্বভাবতই বাবা মা চিন্তায় পড়ে গেছিলেন মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে। সমাজের যা রীতি মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়েও যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন দম্পতি। তবে নিয়ে নিজেকে এমন ভাবে করেছে যে আজ তার প্রতিবন্ধকতায় তার শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুটো হাতবিহীন ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠে জেসিকা। তবে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো দুটো হাতই ছিল না খালি নইলে সমস্ত কাজে পারদর্শী ছিল সে। নিত্যদিনের কাজ যেমন খাওয়া-দাওয়া, চুল আঁচড়ানো, আঁকা, খেলা করা, কেরাটি শিখা ছবি হাতবিহীন করত জেসিকা। তবে দিন যেতে না যেতেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন চেপে বসে জেসিকার মনে। তবে বহু লোকের বহু কটাক্ষ শুনেছে সেই অনেকে বলেছে হাত ছাড়া অচল জেসিকা।

পরবর্তীতে সকলের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে দীর্ঘ তিন বছরের প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ আকাশে পাড়ি দিয়েছে জেসিকা। তবে শুধু প্লেন চালানো হয় তার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যতম বাহন পাইলট হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। তবে যে কঠিন রাস্তা পার করে আজ নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সফল হয়েছে তার জন্য প্রায় কুড়িটি দেশে গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের কে নিজের জীবনী শুনে উদ্বুদ্ধ করে মহীয়সী নারী জেসিকা। তারই গল্প শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে এমন অনেক কিছুই দেখা যায়। অর্থাৎ সমাজে অসম্ভব বলেই যেকোনো জিনিস একজাস্ট করে না তার প্রমাণ দিয়েছে পাইলট জেসিকা।‌

Leave a Reply

Your email address will not be published.