হাড়ের ভেতরই সোনা! মানুষের

নিজস্ব সংবাদদাতা: আপনার দেহের হাড়ের ভেতরেই নাকি আছে সোনা!এমনটা হতে পারে ভেবেছেন কখনো?আর সেই সোনার লোভে আপনাকে কেউ অপহরণ করে আপনার হাত পা কেটে নিল এমন যদি হয়? আমার আপনার না হলেও  এমন ঘটনার নজির দেখা গিয়েছে আফ্রিকা তে।সেখানে বসবাসকারী শ্বেতী রোগীদের শরীরে নাকি সোনা (GOLD) আছে,আর তাই নাকি তাদের হাত পা কেটে নেওয়া হচ্ছে।

বেশ কিছু মাস আগে হঠাৎই নি হয়ে গেছিলো  চার বছরের ছোট্ট মেয়ে পেন্ডো ইম্যানুয়েল নানডির।সে তানজানিয়ার বাসিন্দা। হঠাৎই খোঁজ পা মেলায়  তার বাবা পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে, উল্টে বাবাকেই গ্রেফতার করার অভিযোগ ওঠে  পুলিশের বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, তিনি নাকি তাঁর মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন টাকার লোভে! কিন্তু কেন এক জন বাবা তাঁর সন্তান কে বিক্রি করবেন!পুলিশের মতে কারণ তাঁর মেয়ে অ্যালবিনো। এবং এই অ্যালবিনিজ়মের কারণেই সে খুব সহজে শিকার হয় দুষ্কৃতীদের হাতে। আফ্রিকার এই দেশগুলিতে এখনও সভ্যতার আলো না পৌঁছানোয় এখনও এখানকার মানুষ অন্ধ বিশ্বাসে নিমজ্জিত।তাদের মতে অ্যালবিনো মানুষের হাড়ের ভেতর নাকি সোনা আর নানা ঔষধি পদার্থ থাকে। তাই তারা অ্যালবিনো মানুষদের ধরে তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে, হাড় বের করে।এবং আশ্চর্যজনক বিষয় তা দিয়ে নাকি তৈরি হয় ওষুধও! এই অন্ধ বিশ্বাসের ফলস্বরূপ কখনও কখনও অপহরণের পরে হাত-পা কেটে তিলে তিলে মেরেও ফেলা হয় অ্যালবিনোদের। আর তারপর স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছে নাকি বিক্রি হয়ে যায় তাঁদের দেহের নানা অংশ সম্পূর্ণ গোপনে।এখন প্রশ্ন হলো সরকার কি এই অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি?

এ সব কুসংস্কার বন্ধ করতে যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার চেষ্টা করেনি, এমন নয়। তানজানিয়ায় কঠিনতম নির্দেশ আছে, অ্যালবিনো-শিকারি ধরা পড়লে যেন সর্বোচ্চ বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয় তার। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার পরেও হামেশাই ঘটে চলছে এরকম অমানবিক ঘটনা।হয়তো পেন্ডোর ঘটনা প্রকাশ্যে না এলে ফের কখনো আলোচিত হতো না এই ঘৃণ্য অভ্যাস। 

পুলিশ এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে শেষমেশ উদ্ধার করা হয় সম্ভব হয় ছোট্ট পেন্ডোকে।তবে জীবিত নয়, হাত-পা কাটা, মৃত অবস্থায়।তবে তাকে জীবিত পাওয়া যাবে কিনা বা জীবিত পাওয়া গেলেও, তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি আস্ত থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল আগেই। এর আগে ঠিক এমনই  নৃশংস ভাবে হাত কাটা অবস্থায় ফেরত পাওয়া গেছিল ১০ বছরের আর এক ভাচ্চা মিউয়িগুলু মাটোনাঙ্গেকে। স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে  অপহরণ করা  হয়েছিল।

শুধু তাই নয় অবাক বিষয় কখনও কখনও খোদ কোনও অ্যালবিনো মানুষই নাকি শিকারির দেখানো লোভের ফাঁদে পড়ে যান।মোটা টাকার বিনিময়ে রাজি হয়ে যান পরিবারের কারও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শিকারিদের হাতে তুলে দিতে।তথ্য উঠে আসছে আরো ভয়ংকর কিছু মানসিকতা ও।অনেকের উদ্দেশ্য ওষুধ তৈরি বা সোনা খোঁজা নয়, তারা বিশ্বাস করেন, অ্যালবিনো মানুষের হাড় ঘরে রাখলে নাকি সুখ সমৃদ্ধি আসে, সৌভাগ্য বাড়ে।শুনলে অবাক হবেন তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয় এক এক জন অ্যালবিনো মানুষের হাত বা পা এবং সারা দেহের হাড়  কিনতে চাইলে তার দাম পড়ে ৭৫ হাজার থেকে এক লক্ষ মার্কিন ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.