পতিতাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় কিভাবে?

নিউজ ডেস্ক পতিতা মানেই যৌনপল্লী আর যৌনপল্লী মানেই দেহ ব্যবসা এই সকল বিষয়গুলি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। আজ সমাজে দেহ ব্যবসার এত রমরমা চলছে পুরুষ জাতির জন্যই। কোন পুরুষের ছোঁয়ায় এক নারী পতিতাতে পরিণত হলেও দোষারোপ করা হয় সেই নারী সমাজকে। পুরুষশাসিত দেশে কোন স্থানই পায় না নারীরা। যার কারণে আজ এক যন্ত্রণাদায়ক জীবন অতিবাহিত করতে হয় পল্লী সমাজের পতিতাদের। তবে এই সকল পতিতাদের সমাজে ঘৃণ্য চোখে দেখার কারণে ঠিকমতো তাদের মৃতদেহগুলিকে  সৎকার করা হয় না। সারা জীবন সমাজের নির্মম অত্যাচার সহ্য করার পরেও তাদের মৃতদেহ গুলিকে শিক্ষিত সমাজের নিষ্ঠুর পরিহাসের শিকার হতে হয়। 

পুরুষ জাতির চাহিদা অনুযায়ী তাদের বিছানায় সুখী করতে পারায় আজ যৌনপল্লী গুলিতে ভিড় জমায় নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের একাংশ পুরুষ জাতিরা। যৌন মিলনের সময় পতিতাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও বর্তমান সমাজে তাদের সম্মান দিতে নারাজ অধিকাংশ পুরুষ। যার কারণে আজ এক দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয় পতিতাদের। যৌনসঙ্গমের সময় কোনো পুরুষই তাদেরই জাত কিংবা ধর্ম বিচার করে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয় না। অথচ তাদের মৃত্যুর পর কিভাবে তাদের সৎকার করা হবে সেই নিয়ে অনীহা দেখা দেয় শিক্ষিত সমাজের মানুষদের প্রতি। 

পতিতারা দেহ ব্যবসা করে নিজেদের পেট চালানোয় সমাজে আজ অচ্ছুত সেই সকল মহিলারা। পতিতা কর্মীদের দেখলেই তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এই শিক্ষিত সমাজ। কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষই রয়েছেন যারা পতিতাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝে তাদের পাশে থেকে তাদের যন্ত্রণা ভাগ করে নিয়ে এই সমাজে পতিতা কর্মীদের সম্মান দেওয়ার জন্য এক অদম্য লড়াই লড়ে যাচ্ছেন। 

একটি পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ পতিতারা নিজের অনিচ্ছায় অথবা পেটের দায়ে কিংবা সংসারের বোঝা সামলাতে গিয়ে বা কোনো প্রচারণা ফাঁদে পড়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে এই দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। খুব অল্প বয়সেই এই ব্যবসা আসার কারণে অধিকাংশ পতিতাদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায় একাধিক রোগব্যাধির। অধিকাংশ পতিতা কর্মীদের যৌন-সংক্রমণ জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তবে এই সকল মৃতদেহগুলি সমাজে সৎকার করার অনুমতি পান না পতিতারা। এটি শুনলে সত্যি অবাক হওয়ার বিষয় যে  ২০২১ সালে দাঁড়িয়েও আধুনিকতার মোড়কে মোড়া এই সমাজে আজও পতিতাদের অবহেলিত করে তাদের মৃতদেহ গুলিকে কোন বস্তায় বেঁধে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় অথবা লোকচক্ষুর আড়ালে কোন ফাঁকা জমিতে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহগুলিকে পুঁতে দেওয়া হয়। ‌সমাজে কোন ধর্ম মতেই পতিতাদের সৎকার করা হয় না। পতিতাদের জীবিকা বিশ্লেষণ করলে চোখে জল আসার মতোই একাধিক রহস্য উন্মোচন হয় তাদের জীবনের ঝুলি থেকে। কিন্তু তাদের নিয়ে কমবেশি লেখকেরা অথবা কাব্যিক ব্যক্তিরা গল্প লিখলেও বাস্তবে তাদের পাশে থেকে শিক্ষকতায় মোড়া এই অশিক্ষিত সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করে পতিতা কর্মীদের সম্মানের সহিত স্থান দিতে ব্যর্থ হয় অথবা অনাগ্রহ প্রকাশ করে সমাজের মানুষেরা।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.