অ্যানাবেলা ডল থেকে শুরু করে ভৌতিক পুতুল। ৫ টি জিনিসের ব্যাখা দিতে পারেনি আজও বিজ্ঞান

নিউজ ডেস্কঃ আপনি কি অভিশাপ বা অভিশপ্ত বস্তুর অশুভ ক্ষমতায় বিশ্বাস করেন? অনেকেই বিশ্বাস করেন বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি অভিশপ্ত কোন মূর্তি বা ঘর সাজানোর উপকরণও ডেকে আনতে পারে বিপদ। বর্তমানে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে ইতিহাসের পাতায় নথিবদ্ধ থাকা বিভিন্ন অলৌকিক বা অভিশপ্ত ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তবে,এখনো কিন্তু অলৌকিক অভিশপ্ত ঘটনায় বিশ্বাসী লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এছাড়া, এখন ও পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণ রয়ে গেছে যার কোন ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারেনি।

1)দ্য ক্রইং বয়

ক্রইং বয় নামক এই চিত্রকর্মটি প্রথম সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে 1985 সালের জুলাই মাসে। ওই সময় ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাদুঘরের অগ্নিকাণ্ডের ফলে সমস্ত কিছু ভষ্মিভূত হলেও খুবই অস্বাভাবিক ভাবে শুধুমাত্র এই চিত্রকর্মটি রয়েগেছে অক্ষত। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার ওই বছরই সেপ্টেম্বরে দ্য সান এর আর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় এই ঘটনা খবরে ছাপার পরই তাদের অনেক গ্রাহক টেলিফোনে একই ঘটনা জানিয়েছেন, তাহল এই চিত্রকর্মটি কপি বাড়িতে সংরক্ষণ করার পরে প্রায় প্রত্যেকেরই বাড়ি অগ্নিসংযোগের ফলে বশীভূত হয়েছে কিন্তু চিত্রকর্মটি অক্ষত রয়ে গেছে। এমনকি দমকল বাহিনীর পরিসংখ্যান থেকেও একথা প্রমাণিত হয়েছে যে চিত্রকর্ম যে সমস্ত বাড়িতে আছে তুলনামূলকভাবে সেই সমস্ত বাড়িতেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেশি ঘটেছে এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই ছবিটিকে পাওয়া গেছে অক্ষত অবস্থায়। এরপরে দ্য সানের উদ্যোগে গোটা ব্রিটেনজুড়ে প্রায় 50 হাজার কপি পোড়ানো হয় এই ছবিটি। তারপর ব্রিটেনজুড়ে শোরগোল খানিকটা কমলেও, এখনো মাঝে মাঝেই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে শোনা যায়।

2)অ্যানাবেল ডল

নামের এই ভূতুরে পুতুলটিকে নিয়ে গল্প কথার কোনো শেষ নেই।সকলেই আমরা এর নাম শুনেছি। 1970 সালে ডানা নামক এক মহিলা তার মেয়ের জন্য এই পুতুলটি কিনে আনে কিন্তু,কয়েকদিন থেকে পর থেকেই শুরু হয় পুতুলের নানা রকম রহস্যময় আচরণ। পুতুলটিকে এক জায়গায় রেখে বাড়ির বাইরে গেলে ফিরে এসে প্রায়ই দেখা যেত যে পুতুলটি নিজে থেকেই স্থান পরিবর্তন করে ফেলেছে, এছাড়াও পুতুলটির গায়ে প্রায়ই তাতে রক্তের দাগ দেখা যেত। এতে ভয় পেয়ে ডানার এক বন্ধু একদিন পুতুলটিকে বাইরে ফেলে আসে, সেই সময় 2 নামক ওই মহিলার মনে হয় কেউ তার গলা টিপে ধরেছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। বর্তমানে এই পুতুলটি 1 জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এনাদের নামক এই পুতুলটি কে কেন্দ্র করে হলিউডের বেশকিছু সিনেমা তৈরি করা হয়েছে পরবর্তীকালে।

3)উল্লুরু রক্

অস্ট্রেলিয়ায় কখনো ঘুরতে গেলে চেষ্টা করবেন উলুরু রক্ নামক প্রাচীন এই পাথরের টিলাটি ঘুরে আসার।কিন্তু মনে রাখবেন ঘুরতে গেল এখান থেকে যেন ভুলেও সংগ্রহ করবেন না কোন নুড়ি পাথর। বিগত প্রায় কুড়ি হাজার বছর ধরে এই টিলার ওপরে প্রাচীন আদিবাসীরা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করে আসছে। আবির বিশ্বাস অনুযায়ী সুপ্রাচীন এই পাথরের সিলেটি রয়েছে অস্বাভাবিক বেশ কিছু ক্ষমতা। কমলা রঙের এই টিলাটির পাদদেশে পড়ে থাকা নুড়ি গুলো খুব সুন্দর কমলা রঙের হয়, অনেক পর্যটকই এখান থেকে নুড়ি সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত পর্যটক এখনো পর্যন্ত এই চেষ্টা করেছেন তাঁরা পরবর্তীকালে প্রত্যেককেই নানা ছোট বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আরে কথা কিন্তু নেহাত ফেলনাও নয়, প্রত্যেক বছর এখানকার স্থানীয় পোস্ট অফিসে পার্সেল করা প্রচুর নুড়ি ফেরত আসে কারণ হিসাবে জানানো হয় যে পর্যটকরা এখান থেকে সংগ্রহ করা নুড়ি নিয়ে যাওয়ার পরে বিভিন্ন দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন।

4)ডিব্বুকের বাক্স

প্রথমবার এই বাক্সটিকে দেখলে কোন সাধারণ পানীয় সংরক্ষণ করার বাক্সের মতই লাগবে।কিন্তু, তেমনটা ভাবলে বাক্স খোলার পরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এক সারপ্রাইজ।জুস কিংবদন্তী অনুযায়ী ডিব্বুকের বাক্স নামে খ্যাত এই বাক্সের ভেতরে আছে, পাথরের উপর খোদাই করা প্রার্থনার এক অংশ বিশেষ,একটি কাপ, কিছু মুদ্রা এবং কয়েকটি চুল।উনবিংশ শতকে এই বাক্সটি প্রথম স্পেনের নিয়ে আসেন হ্যাভেলা নামক বনেদি পরিবারের এক নারী। কিন্তু বাক্সটি আনার কয়েকদিনের মধ্যেই তার পরিবার এক ভয়ানক দুর্দশার সম্মুখীন হয় এবং তাদের অবস্থা হয়ে ওঠে শোচনীয়। তাই হ্যাভেলার নাতনি বাক্সটিকে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক বাক্সটিকে সংগ্রহ করেন। ইহুদি ধর্মালম্বী ওই ব্যক্তি এই বাক্সটি দেন তার মাকে উপহার যাবে। অস্বাভাবিক ব্যাপার হল পরদিনই তার মা ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান। এরপরে অভিশপ্ত ভেবে এই বাক্সটি কে তিনি নিলামে বিক্রি করে দেন। কথিত রয়েছে এরপর থেকে যারা এই বাক্স সংগ্রহ করেছেন তারা প্রত্যেকে ঘুমের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেন,অনেকের আবার মাথার সব চুল পড়ে যাওয়ার নজির ও রয়েছে।বাক্সটির বর্তমান অবস্থান কারণে সঠিকভাবে জানা নেই তবে একথা মনে করা হয় যে বাক্সটির শেষ মালিক এটিকে এমন কোন গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন যাতে বাক্সটি আর কারোর জীবন তছনছ করতে না পারে।

5)ভৌতিক পুতুল

কথিত  আছে অষ্টাদশ শতকে এক জিপসি নারী তার ছেলেকে জন্মদিনের উপহার হিসাবে এই পুতুলটি তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জন্মদিনের আগের দিনই তার ছেলে জলে ডুবে মারা যায়। মনে করা হয় সেই ছেলের আত্মায় রয়েছে এই পুতুলের মধ্যে। পুতুলটি মানুষের স্পর্শের সাড়া দেয় বলেও মনে করা হয়। এছাড়া কথিত আছে যে এই পুতুলটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নারীরা কোন কারণ ছাড়াই অত্যন্ত দুঃখী হয়ে যায়। অনেকেই পুতুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তোর কান্নায় ধরে পড়েছেন এমন ঘটনার নজির নেহাত কম নেই।

ভূত আছে কি নেই বা সত্যি করে অভিশপ্ত বস্তু বলে কিছু হয় না হয় না এসব নিয়ে তর্ক চলতেই থাকবে কিন্তু একথা সত্যি যে মানুষের চিরকালের কৌতুহল অলৌকিক জিনিস নিয়ে।হয়তো আজ থেকে কয়েক বছর পরেই বিজ্ঞান এই ধরনের ঘটনা গুলোর কোন ব্যাখ্যা দিতে পারবে বা হয়ত এই ঘটনাগুলো রয়ে যাবে সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনার উদাহরণ হিসাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.