ভৌতিক ক্রিয়াকলাপকে ভয় পেয়ে এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয় এই দ্বীপপুঞ্জকে। কোন দেশে রয়েছে এই স্থান জানেন?

নিউজ ডেস্ক –  পৃথিবী একটি বিস্ময়কর জগৎ। যার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভৌতিক ক্রিয়া-কলাপ ঘটে চলে নানা জায়গায়। তবে সেটিকে সবসময় ভৌতিক বলা সাজে না। কারণ কিছু জিনিস এতটাই অবিশ্বাস্যকর ও অকল্পনীয় যে সেদিকে ঠিক জায়গায় বলা চলে না এদিকে রহস্যময় জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। এই জায়গাটি রয়েছেন ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ দ্বীপ, যার নাম বাল্ট্রা। এই দ্বীপে বিজ্ঞানীরা এসে বহু  গবেষণা করেও কোনো কূল-কিনারা  পাইনি। নেতারা এই দ্বীপটির নাম দিয়েছেন ‘ভোরটেঙ’, যার অর্থ ঘূর্ণিপাক। ঘূর্ণিপাক সচরাচর  সমুদ্রের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই স্থানটিতে যে ব্যক্তি আসবে সেও তার চেতনাবোধের জন্য ঘূর্ণবাতের  মতোই পুরো দ্বীপটিতে  ঘুরপাক খাবে। 

তবে শুধু একজন দুজন নয় এমন বহু মানুষ সাক্ষী রয়েছে এমন বিভীষিকাময় দ্বীপের। লোকো ভাষ্যমতে দ্বীপটি সম্পূর্ণ জনবসতিহীন এবং সেখানে গাছপালা সহ জীবজন্তুর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এই দ্বীপটি দক্ষিণ সিমুর নামেও পরিচিত। ইতিহাস জানা যায় ইকুয়েডরের নিকটবর্তী প্রায় ১৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। তার মধ্যে একটি হলো বাল্ট্রা। আকারে বৃহদাকৃতির না হলেও এর আয়তন মোট ২১ বর্গ কিলোমিটার। 

জানা গিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাল্ট্রা সহ দুটি দ্বীপে বিমান ঘাঁটি স্থাপন করে ইউএস সরকার। এরপর থেকেই বিশ্ববাসী জানতে পারে বাল্ট্রা দ্বীপের অদ্ভুত রহস্যের কথা। কারণ তখন থেকেই বিমান বন্দরের মাধ্যমে বহু পর্যটকদের আনাগোনা থাকে এই দ্বীপে। তবে সেই সময়কার বিমানঘাঁটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন এক ফ্রান্সিস ওনার। তিনি দ্বীপপুঞ্জ ঢাকা অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হন। আর উপর ভিত্তি করে তিনি জানান “জীবনের সবচেয়ে বড় বড় বিস্ময়কর ঘটনা গুলি মুখোমুখি হয়েছি আমি এই বাল্ট্রা দ্বীপে”। তিনি জানিয়েছেন এই জায়গাটি গ্রীষ্মকালীন। যার কারণে প্রায়ই ঘনঘন বৃষ্টি দেখা যায় দ্বীপপুঞ্জ গুলিতে। কিন্তু অন্যান্য বৃষ্টিপাত হলেও বাল্ট্রা দ্বীপের মাটিতে কখনোই বৃষ্টি ছুঁতে পারে না। কারণ এখানে আকাশ থেকে নিচে মাটি পর্যন্ত পৌঁছায় না। ব্যাপারটি শুনতে ও দেখতে বড়ই অদ্ভুত হলে এটি বাস্তব। আকাশ থেকে নিচে বৃষ্টির জল পড়লেও কোন এক অদৃশ্য দেওয়ালের কারণে এখানে বৃষ্টির একটি ফোঁটাও পড়ে না। এমনকি এই দ্বীপের উপর থেকে কোন প্লেন গেলে সিটির কম্পাস দিক নির্ণয় করতে ভুল করে। পাশাপাশি কোন পাখি এই দ্বীপের উপর থেকে উড়ে যেতে সক্ষম হয় না। চেহারা দেখলে মনে হয় কোন এক অদৃশ্য দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পাখিটি ফিরে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে যে সকল ব্যক্তি এই দ্বীপে আসে তারাও ই-পেপার আসামাত্রই যেন পুরো মাথা হালকা হয়ে যাওয়ার অনুভূতি মনে করেছেন বহু মানুষ। তাদের দিকনির্দেশক কাটা যেটি বিভিন্ন জায়গায় সঠিক দিক নির্দেশ করে সেটি এই দ্বীপে আসতেই কাঁটা উল্টোপাল্টা দিকে ঘুরে দিক ভুল করে দেয়।  এই ঘটনাগুলো দ্বীপে থাকাকালীন ঘটলেও পরবর্তীতে বেশ কিছুদিনের ব্যবধানে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে অন্যান্য দ্বীপে শীল মাছ, ইগুয়ানা, দানবীয় কচ্ছপ একাধিক বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখা গেলেও বাল্ট্রা দ্বীপে কোন প্রাণের অস্তিত্ব দেখা যায় না। তবে বহু বিজ্ঞানীরা বহু চেষ্টা করেও এর কোনো সদুত্তর পায়নি। বর্তমানে সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে  বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি অধিকাংশ প্রত্নতাত্ত্বিকবিদরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.