কেন পৃথিবীতে প্রলয় নেমে আসবে চাঁদ নষ্ট হলে?

নিউজ ডেস্ক চাঁদ হচ্ছে সকলেরই একটি পরিচিত গ্রহ। ছোটবেলায় শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য গল্প হোক কিংবা বড়দের মন খারাপের ওষুধ সবকিছুই মূলত নির্ভর করে রয়েছে চাঁদের উপর। তবে মহাকাশ থেকে যদি এই গ্রহটি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায় তাহলে কি ঘটবে পৃথিবীতে! প্রশ্নটি  যতটা সোজা ততটাই কঠিন তার উত্তর।  

বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পারেন  মহাজাগতিক বিশ্বে সর্বপ্রথম যে গ্রহটির অস্তিত্ব ছিল সেটি হলো সূর্য। তবে পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় পৃথিবী। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী তার চারিদিকে ঘুরার সময় হঠাৎই মহাকাশ থেকে গোলাপ একটি পাথর ধেয়ে আসে পৃথিবীর দিকে। এরপরই সেটি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ায় পৃথিবীর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জন্ম নেয় অন্য একটি গ্রহ চাঁদের। তবে কোন ঘটিত ঘটনার পেছনে দুটি দিক থাকে। একটি ভালো তো একটি খারাপ। পৃথিবীর সঙ্গে মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষ হওয়ায় যেমন একদিকে অন্য একটি নতুন গ্রহ চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল সেরকমই গবেষকদের মতে এই সংঘর্ষ না হলে বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য রয়ে যেত পৃথিবীটি। যার কারণে অনেক গবেষকদের মতে পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পেছনে এক বিরাট অবদান রয়েছে চাঁদের। পাশাপাশি আরেকটি অনস্বীকার্য অবদান হল চাঁদের সঙ্গে সমুদ্রের সম্পর্ক। 

ছোটবেলায় পাঠ্য পুস্তক হোক কিংবা ‌ বড় বেলার কোন গবেষণা কার বই। সবটাতেই লেখা নিয়ম অনুযায়ী সাগর ও সমুদ্রের সমুদ্রের জলকে মধ্যাকর্ষণ শক্তি মাধ্যমে নিজের দিকে টানে চাঁদ। যার কারণে চাঁদের দিকে এবং বিপরীত দিকে জল একই সময়ে ফুলে ওঠে। তবে পৃথিবী থেকে যখন চাঁদের দূরত্ব বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পায় তখন ফুলে ওঠা জল নেমে যায় অর্থাৎ ভাটার সৃষ্টি হয়। চাঁদের এই জোয়ার ভাটা নিয়ন্ত্রণের জন্য আজ সাগর ও সমুদ্রের জলে ভারসাম্য রক্ষা থাকায় বর্তমানে জলজ প্রাণীরা জীবিত রয়েছে। কিন্তু কল্পনা করলে দেখা যায় মহাবিশ্বে চাঁদ বলে কোন অস্তিত্ব না থাকলে জলজ প্রাণীদের অস্তিত্ব থাকত না। এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের অস্তিত্ব না থাকায় এক বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে প্রাণী সমাজ। অর্থাৎ চাঁদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে জোয়ার ভাটার সম্পর্ক।  তবে এবার প্রশ্ন হচ্ছে চাঁদ যদি না থাকতো তাহলে কি হতো?

এই বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যদি মহাকাশ জগতের কোনো অস্তিত্ব না থাকে তাহলে চাঁদ পৃথিবীর যে জল নিয়ন্ত্রণ করে সেটি সম্পূর্ণ চলে যাবে সূর্যের অধীনে। এর ফলে পৃথিবীর বুকে দেখা দেবে এক মারাত্মক পরিস্থিতি। যেমন-জলের ভারসাম্য বজায় না থাকলে একদিকে সুনামি হয়ে গোটা পৃথিবী ভেসে যেতে পারে আবার অন্যদিকে সমুদ্রের সম্পূর্ণ জল শোষণ করে মারাত্মক খরা সৃষ্টি হতে পারে গোটা পৃথিবী জুড়ে। যার কারণে ভবিষ্যতে আর পৃথিবীর কোন উপকূল অক্ষত অবস্থায় থাকবে না। 

শুধুমাত্র উপকূল ধ্বংস নয় পাশাপাশি গোটা পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। পরিবর্তন হবে জলবায়ু, বিনষ্ট হবে পৃথিবীর প্রকৃতি। এমনকি পৃথিবীর সূর্যকে কেন্দ্র করে যে যায় দিকে ঘুরছে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাগল ঘোড়া মতো ছুটবে। যার ফলে কোন ঋতু আর অবশিষ্ট থাকবে না।  তখন দুপুরে তাপমাত্রার পারদ পৌঁছাবে ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশি আর ভোরবেলা সেটা হিমাঙ্কের নিচে ‌ নেমে হবে  ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর যে প্রকৃতিতে এমন তাপমাত্রা ওঠানামা করে  সেখানে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে বলে আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। তবে দীর্ঘদিন পর প্রকৃতি আবার স্বাভাবিক জায়গায় ফিরে আসলেও পৃথিবীকে আর আগের মতো চেনা সম্ভব হবে না।  তবে গবেষকদের মতে এমনি এমনি চাঁদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। যদি কখনো মহাকাশের কোন ভারী বস্তু চাঁদে এসে আঘাত করছে ততক্ষণ পর্যন্ত চাঁদের কিচ্ছু হবে না। তবে চাঁদ বিনষ্ট হয়ে গেলে তার টুকরো পৃথিবীতে এসে পড়লে পৃথিবীর কোন অস্তিত্ব বাকি থাকবে বলে সন্দেহ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.