থাইরয়েডের হওয়ার কারনেই বারতে পারে মানসিক রোগ

নিউজ ডেস্কঃ মানুষ কেন অবসাদের স্বীকার হন? কখনও কি ভেবে দেখেছেন! আসলে অনেক কারনেই মানুষ মানুষিক অবসাদের স্বীকার হতে পারেন। মানব শরীরের একাধিক হরমোন এর জন্য দায়ী। বিশেষ করে বয়েস বারলে শরীরে একাধিক রোগের প্রকোপ বাড়ে।

বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি ফলেই হতে পারে মানসিক অবসাদ।এক গবষণায় প্রমাণ হয়েছে এমনই এক তথ্য৷ শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই হরমোন। পাশাপাশি থাইরয়েড মানসিক সুস্থতার উপরেও এক বিরাট কাজ করে।

মানবদেহে থাইরয়েডের গ্ল্যান্ড কতটা কার্যকারী? এটি জানার জন্যই গবেষকেরা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোনের (টিএসএইচ) মাত্রা পরিমাপ করার চেষ্টা করেছিলেন। আর এই গ্রন্থিই হল এই টি এস এইচ  হরমোনের মূল উৎস৷ মানবদেহে টিএসএইচ এর মাত্রা কম থাকলে থাইরয়েড গ্লান্ড ঠিকভাবে কাজ করে এবং প্রচুর পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করে থাকে৷ পাশাপাশি গবেষকেরা আরও একটি দিকে লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করেন তাহল, আসল থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার পরিমাপ গ্রহণ করেন এই কারনে যে থাইরয়েডের সক্রিয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷ রটারডামের ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক মার্কো মেডিকি জানিয়েছিলেন, যেসকল বয়স্করা একা থাকে পাশাপাশি যাদের থাইরয়েডের সক্রিয় রয়েছে তারা অন্যান্যদের থেকে অনেকবেশি মানসিক রোগের শিকার হয়েছেন৷ আর এটা থেকে প্রমানিত হয় যে, থাইরয়েডের কার্যকলাপের ফলে মানসিক স্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি অনেকসময় রোগী হাইপোথাইরয়ডিসম ও হাইপারথাইরয়ডিসম-এর শিকার হতে পারে৷

এই গবেষণার জন্য গবষকেরা ৭০ বছর বয়সী মানুষদের বেছে ছিলেন। ১,৫০০ জনকে নিয়ে এই পরীক্ষা করেন তারা৷ গবেষকেরা প্রত্যেকটি মানুষের টিএসএইচ এর মাত্রার পাশাপাশি অবসাদের উপসর্গগুলি পরীক্ষা করেছিলেন৷ প্রথম বারের পরিদর্শনে অবসাদের কোন উপসর্গ দেখতে না পেলেও পরবর্তী ৮ বছরে তাদের মধ্যে অবসাদের উপসর্গ বৃদ্ধি পেতে দেখা যেতে শুরু করে।

টিএসএইচ-এর পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছিল৷ এই গবেশণার যে ফল তাদের হাতে আসে তাতে দেখা যায় যে যাদের মধ্যে থাইরয়েডের সক্রিয়তা শক্তিশালী, তাদের মধ্যেই প্রত্যেকের অস্বাস্থ্যকর মানসিক অবস্থায় রয়েছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *