৬০ এর দশকে ফিরে গিয়ে নতুন ছবি। পরিচালক সন্দীপ প্রতিহারের

সুমিত, কলকাতাঃ নেটফ্লিক্স, আম্যাজন প্রাইম এর যুগে আজকাল মানুষ সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা প্রায় বন্ধ করতে চলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ভাবে ইংলিশ ছবি থেকে শুরু করে বাংলা ছবি এক সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে মত অনেক সিনেমা বিশেষজ্ঞের। তবে ইউটিউব এবং পরবর্তী কালে ফেসবুকের ভিডিও উইঙ্গ আসার পর একটা খুব ভালো জিনিস চোখে পড়ার মতো বিষয় মানুষের সামনে এসেছে। তাহল ছবি সম্বন্ধে মানুষের জ্ঞান। কথাটা শুনে কেমন ধোঁয়াশা মনে হল? একটু খুলে বলা যাক। ধরুন একটি ছবির ট্রেলার বা ধরুন নতুন একটি ছবি রিলিজ করার কিছুদিন পর তা ইউটিউবে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে আপামর দর্শক। এবং সেখানে ছবিটি দেখার পর কমেন্ট বক্সে কমেন্ট ছেড়ে যান অনেকেই। ফলে সেই ছবি কোন ছবির নকল করা হয়েছে তা ধরতে অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

ভারতবর্ষের মতো জায়গায় বলিউডের পাসে টলিউডের স্থান আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ একটা সময় বলিউড শব্দটা তৈরি করা থেকে শুরু করে নতুন ছবি তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলার পরিচালক, বা অভিনেতাদের কথা সবার আগে মাথায় আসত বলিউডের ছবি নির্মাতাদের। আর এখন ঠিক তাঁর উল্টোটা, বাংলার কোনও পরিচালককে ছবি তৈরি করার জন্য কোনও দক্ষিনের ছবি বা হিন্দি ছবির উপর ভর করতে হচ্ছে। অর্থাৎ হিন্দি বা দক্ষিনি ছবির সিক্যুয়েল তৈরি করলেই তবে বাংলা ছবির নির্মাতা খুশি হন। অর্থাৎ এর থেকে একটা কথা খুব স্পষ্ট যে সত্যজিৎ রায় বা ঋত্বিক ঘটকের মতো মানুষের ছবি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের মানুষেরা কেনও সেই সময় বসে থাকতেন? আর এখন কেনও তাদের পায়ের ছাপও পরেনা বাংলার মাটিতে। “উই উইল ক্রিয়েট সাম নিউ” এই কথাটা বলার মতো বা সৎ সাহস নেই অনেক পরিচালকের।

বাংলা ছবি মানেই কপি পেস্ট। এই শব্দটা এখন প্রায় মানুষের মনে গেঁথে গেছে। তাই নতুন মোড়কে ছবি পরিবেশন করলেও অনেকে সিনেমা প্রেমি মানুষ একটা কথা জিজ্ঞেস করে সবার আগে ” দাদা এটি কোনও হিন্দি বা দক্ষিনের ছবির কপি পেস্ট”। তবে এই ধারনা থেকে বেড়িয়ে এসে নতুন ধারার অর্থাৎ সেই ঋত্বিক ঘটকের মতো পরিচালকের কথা মাথায় রেখে ৬০ এর দশকের পরিচালকদের গল্প নিয়ে নতুন ছবি পরিবেশন করতে চলেছেন পরিচালক সন্দীপ প্রতিহার। ছবির মূল বিষয়বস্তু এখনকার সিনেমার কথা, সিনেমার পরিকাঠামো, পরিচালকদের আশা, নিরাশা এবং আন্তর্জাতিক মানের ছবি তৈরি করতে গিয়ে যে সকল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় পরিচালকদের। ছবির নাম “THE ERA OF 1962″। অভিনয়ে বিশ্বজিৎ দাস, প্রান্তিক ব্যনার্জী, চৈতালি দত্ত। এফ পি এস প্রোডাকশনের ব্যানারে তৈরি ছবিটির মিউসিক দিয়েছেন কালার্ড জেব্রা এবং দুর্নিবার ডাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *